রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া এ ঘটনার পরপরই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে তাদের কার্যালয়ে হামলা চালায় ও আগুন দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে গণঅধিকার পরিষদ বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে মিছিল বের করলে জাপা কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে অফিসের নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং চারটি সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়।
এর আগে বিকাল থেকেই জাপা কার্যালয়ের সামনে সতর্ক অবস্থানে ছিল বিপুলসংখ্যক পুলিশ। বিকালে সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের অফিসে হামলা চালানো হয়েছে এবং ছয়টি জেলায় জাপার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অভিহিত করেন।
এদিকে, সংঘর্ষের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। রংপুরে জাপার নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয় পাহারা দিচ্ছেন, অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে একাধিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের প্রশ্রয়ে স্বৈরাচারের দোসরদের রক্ষায় পুলিশ আন্দোলন দমন করছে।
পুলিশের টহল জোরদার থাকলেও পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে।



















