এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো বাংলাদেশের ফুটবলে! স্বাগতিক মিয়ানমারকে পরাজিত করার পর আজ সন্ধ্যায় ‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যকার ২-২ গোলের ড্র নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপ ফুটবলের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে একটি অভাবনীয় সাফল্য, যেখানে তারা প্রথমবারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিল।
পুরুষ দলের পথ অনুসরণ, নারীদের নতুন দিগন্ত: এর আগে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল না। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো বাঘিনীরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। এই অর্জন দেশের নারী ফুটবলের অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
গ্রুপ সেরা হয়েই এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ: দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ ‘সি’ তে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। স্বাগতিক মিয়ানমারের ঝুলিতে ৩ পয়েন্ট এবং বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান উভয়েই ১ পয়েন্ট করে অর্জন করেছে। যদিও বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে বাকি রয়েছে, এবং মিয়ানমারের শেষ ম্যাচ বাহরাইনের বিপক্ষে, তবুও বাংলাদেশের গ্রুপ সেরা হওয়া নিশ্চিত।
হেড-টু-হেড নিয়মে নিশ্চিত গ্রুপ সেরা: টুর্নামেন্টের বাইলজ (নিয়মাবলী) অনুযায়ী, যদি পয়েন্ট সমান হয়, তবে প্রথমে হেড-টু-হেড ফলাফল বিবেচনা করা হয়। যেহেতু বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই মিয়ানমারকে পরাজিত করেছে, সেহেতু শেষ ম্যাচে যদি বাংলাদেশ হেরেও যায় এবং মিয়ানমার জিতে যায়, তখনও উভয় দলের পয়েন্ট সমান (৬) হলেও হেড-টু-হেড ফলাফলের কারণে বাংলাদেশই গ্রুপ সেরা হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই নারী এশিয়ান কাপে খেলার পথে আর কোনো বাধা রইল না। এই ঐতিহাসিক অর্জনে দেশজুড়ে আনন্দের ঢেউ লেগেছে।



















