পানির সমস্যা সমাধানে যত দ্রুত সম্ভব পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে কৃষকেরা সেচসুবিধা পাবেন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে সহায়তা হবে।
উত্তরাঞ্চলকে দেশের শস্যভাণ্ডার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জায়গাতেও পানির সংকট রয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। তাঁর সময়েই বরেন্দ্র প্রকল্প কার্যকর হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান।
বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের আগে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের স্মরণে সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশ—দুই সময়ের ইতিহাসকেই ধারণ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দল নিজেদের জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করলেও তাদের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
দেশের কয়েকটি শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাইরে থেকে অর্থ সরবরাহ করে এ ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সাবেক ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারী কিছু লোকের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, শফিকুল হক মিলন, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা।


















