সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কয়েকটি এলাকা থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহত হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে বিস্ফোরণের কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিস্ফোরণের পর এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বিমানবন্দরের ভেতরে বিস্ফোরণের পর আহত কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ফ্লাইট চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে; বিভিন্ন ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে।
কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক হামলা
এর আগে চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দর ও সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে দুটি হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং বিভিন্ন জাতীয়তার আরও কয়েকজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন পাইলট ছিলেন। হামলায় বিমানবন্দরের স্থাপনা ও একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে শনিবারের বিস্ফোরণের দায় কারা নিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইয়েমেন সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরবের সমর্থন এবং হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ঘিরেও সংঘাত চলছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে শনিবারের বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে আরও আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি


















