রবিবার , ৪ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

সরকারি হাসপাতালে ৬১ অক্সিজেন প্লান্ট অচল, ঝুঁকিতে জরুরি চিকিৎসা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্থাপন করা ৯৯টি মেডিক্যাল অক্সিজেন প্লান্টের মধ্যে ৬১টিই অকার্যকর। বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র ৩৮টি প্লান্ট। অর্থাৎ মোট প্লান্টের প্রায় ৬২ শতাংশই কার্যকর সেবা দিতে পারছে না। এতে রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে সিলিন্ডার ও তরল অক্সিজেনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে, যার পেছনে ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (আইইউবি) শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬’-এর প্রথম দিনে উপস্থাপিত একাধিক পর্যালোচনায় সরকারি হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থার এই চিত্র উঠে আসে। বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক, আইইউবি ও ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পপুলেশন সায়েন্স (চিপস) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

‘ফ্রম অক্সিজেন প্লান্টস টু রিলায়েবল অ্যাকসেস’ শীর্ষক প্রবন্ধে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ কার্যালয়ের সিনিয়র অ্যানালিস্ট মারুফ হাসান জানান, দেশের ৬৪টি জেলা হাসপাতাল, ২৮টি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৯৯টি প্রেসার সুইং অ্যাডজর্পশন (পিএসএ) ও ভ্যাকুয়াম সুইং অ্যাডজর্পশন (ভিএসএ) অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) মাধ্যমে ঠিকাদারদের দিয়ে স্থাপন করা ৭০টি প্লান্টের মাত্র নয়টি বর্তমানে চালু। বাকি ৬১টির মধ্যে ৩১টি কারিগরিভাবে অচল এবং ৩০টি সচল থাকলেও নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে না। অন্যদিকে, ইউএনওপিএসের সরাসরি নকশা, নির্মাণ ও চালুর দায়িত্বে স্থাপন করা ২৯টি প্লান্টই বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।

দক্ষ জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের সংকট

করোনা মহামারির সময় হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের সংকট দেখা দিলে কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের আওতায় এসব প্লান্ট স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালেই অক্সিজেন উৎপাদন করে রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, যাতে সিলিন্ডার বা তরল অক্সিজেনের ওপর নির্ভরতা কমে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্লান্টগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ার পেছনে দক্ষ জনবলের অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি ও পরিচালনসংক্রান্ত দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সিএমএসডির অধীনে থাকা সাতটি প্লান্ট এখনো হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।

স্থায়ী বাজেট ও কারিগরি টেকনিশিয়ান না থাকায় কোনো কোনো হাসপাতালে সাধারণ কর্মীদের দিয়ে প্লান্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কারিগরি জ্ঞান না থাকায় তাঁদের পক্ষে দীর্ঘ সময় প্লান্ট চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত অক্সিজেনের বিশুদ্ধতা চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী মাত্রায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

ইউএনওপিএসের মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে স্থাপিত ২৯টি প্লান্টের কারিগরি জনবলের বেতন সহায়তার মেয়াদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এসব প্লান্টের রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা রয়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর সরকার নিজস্ব বাজেটে জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব না নিলে বর্তমানে সচল প্লান্টগুলোও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের অক্সিজেন প্রয়োজন

সম্মেলনের আরেক অধিবেশনে ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ কমিশন অন মেডিক্যাল অক্সিজেন সিকিউরিটির কো-চেয়ার ও আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ড. আহমেদ এহসানুর রহমান বাংলাদেশের মেডিক্যাল অক্সিজেনের চাহিদা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৯ লাখ মানুষের জরুরি অক্সিজেন চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৫৪ লাখ এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত আরও প্রায় দুই লাখ মানুষের অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন শ্রেণির রোগী মিলিয়ে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের চিকিৎসায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হতে পারে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যায়। গুরুতর নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে মৃত্যুঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। নিউমোনিয়ার পাশাপাশি সেপসিস, হৃদ্‌রোগ, সড়ক দুর্ঘটনা, অপুষ্টি, অপরিণত জন্ম, ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসায় অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ।

উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োজনের সময় প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মেডিক্যাল অক্সিজেন পান না। দেশে বছরে আনুমানিক দুই কোটি ৩৮ লাখ ঘনমিটার অক্সিজেনের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ ঘনমিটার। ফলে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যেও ঘাটতি রয়েছে।

বড় হাসপাতালগুলোতে সক্ষমতার ঘাটতি

চালু থাকা ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১টির অক্সিজেনের চাহিদা প্রতি মিনিটে ৫০০ লিটার বা তার কম। এসব প্রতিষ্ঠানে ৫০০ লিটার পার মিনিট (এলপিএম) সক্ষমতার একটি মানসম্মত প্লান্ট দিয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে সাতটি বড় প্রতিষ্ঠানের চাহিদা ৫০০ এলপিএমের বেশি। এসব হাসপাতালে একাধিক প্লান্ট বা অধিক সক্ষমতার প্লান্টের পাশাপাশি তরল অক্সিজেনের ব্যাকআপ প্রয়োজন হতে পারে।

পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতি মিনিটে অক্সিজেনের চাহিদা ৩ হাজার ১৬৫ লিটার। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ চাহিদা ১ হাজার ৭৫০ লিটার, মেহেরপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১ হাজার ৫৯২ লিটার, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৫৩ লিটার, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ১০০ লিটার, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৬৩ লিটার এবং কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭০০ লিটার।

এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, সব হাসপাতালে একই সক্ষমতার প্লান্ট স্থাপন করে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সক্ষমতা নির্ধারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দক্ষ অপারেটর এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বেসরকারি অক্সিজেন উৎপাদনেও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন

সম্মেলনে বেসরকারি অক্সিজেন উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৪৯টি অক্সিজেন প্লান্ট উৎপাদনে থাকলেও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লাইসেন্স রয়েছে মাত্র আটটি প্রতিষ্ঠানের। মান বজায় রাখতে না পারায় একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, মেডিক্যাল অক্সিজেনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে উৎপাদক, সরবরাহকারী, হাসপাতাল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। প্রকল্পের নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ, চালু করা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, অক্সিজেনে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, আর্দ্রতা ও অন্যান্য অমিশ্রণ নির্ধারিত মাত্রায় রয়েছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। এসব উপাদানের মাত্রা বেশি হলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ছয়টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ

অক্সিজেন ব্যবস্থাকে টেকসই করতে ইউএনওপিএস ছয়টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো—

  • অচল প্লান্ট মেরামত করে হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা।
  • দক্ষ অপারেটর নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিং নিশ্চিত করা।
  • নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা।
  • হাসপাতালের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্লান্টের সক্ষমতা নির্ধারণ করা।
  • প্লান্টের কার্যকারিতা, অক্সিজেনের মান, ব্যবহার ও ব্যয় পর্যবেক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা বা ড্যাশবোর্ড চালু করা।

সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, ইউনিসেফ, নিমো অ্যান্ড টিসি এবং বেসরকারি অক্সিজেন উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় মেডিক্যাল অক্সিজেনের নিরাপদ উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতালভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং মা, নবজাতক ও শিশুর জরুরি চিকিৎসায় অক্সিজেনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সরকারি হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্টগুলো কার্যকর করতে শুধু যন্ত্রপাতি স্থাপন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত পরিচালনা, দক্ষ জনবল, স্থায়ী অর্থায়ন ও মান নিয়ন্ত্রণ। এসব ঘাটতি দূর করা না গেলে জরুরি চিকিৎসায় অক্সিজেনের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

জুনের মধ্যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জামায়াত আমিরের

গ্যাস সংকট কাটলেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: জাহেদ উর রহমান

দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

হাদির জানাজায় প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতি হতাশ: গোলাম পরওয়ার

বৈঠকমানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধ হচ্ছে ইরানে, কিন্তু কঠিন বিপদে পাকিস্তান

হেলমেটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন: নিয়ন্ত্রণে ৭টি ইউনিট

তারেক রহমান বাংলাদেশ পুনর্গঠনে চেষ্টা করছেন: মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রাম ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষ: পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত

এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন: নির্বাচনী আপিল ও বর্তমান পরিস্থিতি