ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত পাকিস্তানকে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। একদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে ৯০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ক, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি—এই দুই বিপরীতমুখী বাস্তবতার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ইসলামাবাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ বাড়লে তার সরাসরি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব পাকিস্তানে পড়বে, কারণ সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাকিস্তানের লক্ষ লক্ষ প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত আছেন।
পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় আইনি ও সামরিক জটিলতা তৈরি করেছে সৌদি আরবের সঙ্গে গত বছর স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এক দেশের ওপর হামলা হলে তা অন্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। ফলে ইরান যদি সৌদি আরবে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য কি না, তা নিয়ে দেশটির নীতি-নির্ধারণী মহলে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে সরাসরি প্রতিপক্ষ বানানো পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে, আবার সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করাও দেশটির অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা স্বার্থের পরিপন্থী।
অভ্যন্তরীণভাবেও পাকিস্তান এক সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা থাকায় এই সংঘাত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইসলামাবাদ সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে মূলত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পাকিস্তান সৌদি আরবকে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা (Air Defense) বা সীমিত কারিগরি সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো স্থল অভিযানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
আল জাজিরা



















