সোমবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ঠেকাতে ১০ লাখ বাড়িতে সৌর প্যানেল দেবে থাইল্যান্ড

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ২:৩৭ অপরাহ্ণ

Spread the love

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় ধরনের সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে থাইল্যান্ড। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশটির ১০ লাখ পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ৫ গিগাওয়াট বা ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত প্রমফান।

মন্ত্রী জানান, জ্বালানি খাতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন বাথ বা ৬ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের একটি জরুরি তহবিল ব্যবহার করা হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব যেন ভবিষ্যতে বারবার থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন

থাইল্যান্ডের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো মূলত গ্যাসনির্ভর। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬০ শতাংশের বেশি এসেছে গ্যাস থেকে। বিপরীতে সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে এসেছে প্রায় ১০ শতাংশ।

জ্বালানি খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের এক-চতুর্থাংশের বেশি আমদানি করতে হয় থাইল্যান্ডকে। আবার পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট এলএনজির প্রায় অর্ধেক স্পট মার্কেট থেকে কেনা হয়।

ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে গেলে দ্রুতই এর প্রভাব পড়ে থাইল্যান্ডের জ্বালানি ব্যয় ও অর্থনীতিতে।

রুফটপ সোলারে বড় বিনিয়োগ

এই ঝুঁকি কমাতে রুফটপ সোলারকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছে থাই সরকার। নতুন ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য দেশটির ২৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করার কথা রয়েছে। আগামী মাসে পরিকল্পনাটি প্রকাশের কথা রয়েছে।

প্রতিটি পরিবারকে রুফটপ সোলার স্থাপনের জন্য ৫০ হাজার বাথ বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌর প্যানেল স্থাপনে ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে।

জ্বালানি খাতের মডেলিং প্রতিষ্ঠান ট্রানজিশনজিরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ থাইল্যান্ডে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৬ গিগাওয়াট। এর মধ্যে আবাসিক বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল প্রায় ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট।

নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণ হলে দেশটির ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাবে।

সৌরবিদ্যুতে গতি ফেরানোর চেষ্টা

২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে ছিল থাইল্যান্ড। তবে সরকারি প্রণোদনা কমে যাওয়ার পর নতুন সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের গতি কমে যায়। পরবর্তী সময়ে গত দশকের শেষ দিকে ভিয়েতনাম সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যায়।

এবার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আবারও গতি বাড়াতে চাইছে দেশটি।

গ্যাসের নতুন উৎসও খুঁজছে সরকার

সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধান করছে থাইল্যান্ড। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয় চুক্তি করারও চেষ্টা চলছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পিটিটির অনুসন্ধান ও উৎপাদন শাখা পিটিটিইপি আন্দামান সাগর এবং মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বাজেট বরাদ্দ করেছে।

সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাব কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ - অপরাধ