ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বহু তেলের জাহাজ এই নৌপথ দিয়ে বের হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট কাটার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস পেয়ে বিগত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করায় তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই তেলের বর্তমান বাজারদর
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আজ বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৬ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৩৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কার্যদিবসেও এই দুটি প্রধান সূচকের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা বিগত মার্চ মাসের শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের সর্বনিম্ন বাজার দর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা মওকুফ ও সরবরাহ সচল হওয়ার প্রভাব
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি আলোচনার পর ইরানকে ৬০ দিনের জন্য তেল বিক্রির বিশেষ শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা মওকুফ সুবিধা দেওয়ায় এবং লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় তেলের বাজার এই বড় চাপের মুখে পড়েছে। মিৎসুবিশি ইউএফজে রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ তোমোমিচি আকুতা এই বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের আশা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় সচল হওয়ার কারণেই মূলত অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্বব্যাপী কমছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, দুই দেশের মধ্যকার চলমান পরমাণু আলোচনা যদি আরও অগ্রসর হয়, তবে তেলের দাম খুব দ্রুতই যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স



















