রংপুরের আলোচিত চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ এসেছে। পরীক্ষায় তাদের শরীরে মাদক সেবনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে হত্যাকাণ্ডের আগে তারা ইয়াবা সেবন করেছিলেন—পুলিশের এমন দাবিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী ডোপ টেস্টের ফল নেগেটিভ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
রংপুর মেডিকেল কলেজের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ জানান, ডোপ টেস্টের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে সেগুলো ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় মাদক সেবনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর পুলিশ দাবি করেছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ। তবে এখন ডোপ টেস্ট নেগেটিভ আসায় হত্যার আগে আসামিদের মাদক সেবনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডোপ টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ হওয়াকে কেন্দ্র করে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ঘটনাস্থলের আলামত, আসামিদের জবানবন্দি, সাক্ষীদের বক্তব্য, ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ডোপ টেস্টের ফলাফল মামলাটিকে নতুন কোনো দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না—এ বিষয়ে উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলাটি কোন দিকে যাচ্ছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আসামিদের নেওয়া নমুনায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।


















