বুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

চীন থেকে ২০ জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ২৬, ২০২৬ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

Spread the love

বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট কেনার চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে বাংলাদেশ। প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, লজিস্টিকস, অবকাঠামো, বিমা ও করসহ এ প্রকল্পে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ২ দশমিক ৩০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি ইতোমধ্যে একটি খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে এবং তা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে এই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের মূল মূল্য প্রায় ৬২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। তবে অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় কার্যকরভাবে প্রতিটি বিমানের পেছনে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলার

প্রস্তাবিত ক্রয়ের মধ্যে ১০টি যুদ্ধবিমান বিমানবাহিনীর ‘টেবিল অব অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট’ বা টিওঅ্যান্ডইতে অন্তর্ভুক্ত হবে। বাকি ১০টি এর বাইরে থাকবে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএটিআইসি)-এর সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরের বিশেষ থোক বরাদ্দের মাধ্যমে মেটানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, মূল যুদ্ধবিমানের দামের বাইরে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল সামগ্রী, কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা এবং ফ্রেইট বাবদ প্রায় ৮৮৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। ভ্যাট, বিমা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজের জন্য আরও ১৫৮ মিলিয়ন ডলার এবং অতিরিক্ত জ্বালানি ট্যাংকের জন্য প্রায় ২ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দর-কষাকষি শেষে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে। রাফালের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান কার্যকর সক্ষমতা দেখিয়েছে এবং ইউরোপীয় সমমানের যুদ্ধবিমানের তুলনায় এর দামও তুলনামূলক কম।

বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার ও ইউএভি ড্রোন সিস্টেম সংগ্রহের কার্যক্রমও চলছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ জে-১০সিই। একক ইঞ্জিন ও একক আসনের এই সুপারসনিক যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি ভূমি ও সমুদ্রের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, নজরদারি এবং শত্রুর রাডার ব্যবস্থায় আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। ড্রোনের সঙ্গে সমন্বয় করেও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে বড় ধরনের সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের ভারসাম্যও বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ - অপরাধ