রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় চার বছর আগে গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় বেপারী ওরফে মো. হৃদয় মিঞা ওরফে হৃদয়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই, ২০২৬) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মামলার বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের প্রধান বিষয়সমূহ:
- নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য: ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি ফ্ল্যাটে গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ডিবির তদন্ত ও আসামির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে যে, অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল টাকা হেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে হৃদয়। দেনা পরিশোধ ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে আফরোজাকে একা পেয়ে সে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
- দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি: অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ করে বিচার কাজ সম্পন্ন করেন।
- আলামত ও ফরেনসিক প্রমাণ: তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে আসামির দেওয়া মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত ও সিআইডির ডিএনএ রিপোর্টে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
- আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়ে বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন নিরপরাধ নারীকে অত্যন্ত বর্বরোচিত ও ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।


















