দীর্ঘ এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন)। আজ সোমবার (২৭ জুলাই, ২০২৬) প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং বা ভিত্তিস্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রকল্প ঘিরে সরকারের প্রত্যাশা ও এর গুরুত্বের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থান: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, জি-টু-জি ভিত্তিতে গড়ে উঠতে যাওয়া এই শিল্পাঞ্চলে অন্তত ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) আসবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।
- অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ: আজ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
- অবকাঠামো ও ব্যয়ের রূপরেখা: প্রকল্পটিতে ৪,১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২,৪৬৭ কোটি টাকা আসবে চীনের সফট লোন (প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট) থেকে। এখানে বহুমুখী জেটি, সংযোগ সেতু, চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (CETP), নিজস্ব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার মতো সর্বাধুনিক সুবিধা তৈরি করা হবে।
- হাই-টেক ও প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পায়ন: বস্ত্র ও পোশাক খাতের পাশাপাশি এই শিল্পাঞ্চলে সেমিকন্ডাক্টর, ড্রোন, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স, ফার্মা, মেডিক্যাল ডিভাইস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চমূল্য সংযোজনকারী (High-value addition) চীনা প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তোলা হবে।
- ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত সুবিধা: কর্ণফুলী টানেল (বঙ্গবন্ধু টানেল)-এর সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, পতেঙ্গা টার্মিনাল এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াত অত্যন্ত দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে, যা বিনিয়োগকারীদের পণ্য পরিবহন খরচ বহুগুণ কমিয়ে আনবে।
ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর বেজা ও সিআরবিসির (CRBC) চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে গতি পাওয়া এই প্রকল্প ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোটা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যেই ৬০ শতাংশ প্লট উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।


















