নজিরবিহীন ও তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে পুরো ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত ও চরম সংকটজনক রূপ নেওয়ায় গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) স্পেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দাবানলের কারণে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলে আগুন দাবানল রূপ নিয়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জরুরি সহায়তা চেয়েছে ফরাসি সরকার।
ফ্রান্স ও স্পেনের সর্বশেষ দাবানল পরিস্থিতির মূল চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
- ফ্রান্সে ৬৩ হাজার মানুষ উদ্ধার ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: ফ্রান্সের পর্যটন কেন্দ্র ‘ক্যাপ ফেরে’ উপদ্বীপে আগুন ঘরবাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার মানুষকে নৌকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানিয়েছেন, এই আগুনে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি ভস্মীভূত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৮০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
- স্পেনের ইতিহাসে প্রথম দাবানলজনিত জাতীয় জরুরি অবস্থা: স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকা ও আভিলা প্রদেশ থেকে ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র বাতাস ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে, যা এর আগে কেবল জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময়েই দেখা গিয়েছিল।
- ইইউ-এর কাছে জরুরি সহায়তা: ইউরোপের চলমান এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিপর্যয় মোকাবিলায় ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যৌথভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়াল ফায়ারফাইটিং এয়ারক্রাফট ও জরুরি ত্রাণ সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।


















