কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আকস্মিক কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট (৪৫০ এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং চালকদের গ্যাসের জন্য ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত জরুরি খাতগুলোতে সীমিত সরবরাহের ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, এফএসআরইউটির কারিগরি ত্রুটি মেরামতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অবহেলা এবং আমদানি করা এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণেই এমন অবকাঠামোগত সমস্যায় সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই চাপ কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অধীনে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত করতে সরকার স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান, চতুর্থ ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকে এলএনজি আমদানি এবং ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার পাইপলাইন পর্যালোচনা করছে। এ ছাড়া, গ্যাস সংকটের মাঝে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে যুগ্মসচিব জানান, দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রোল, ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল এবং ২০ দিনের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে, যা আগামী দুই মাস নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা দেবে।


















