যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ট্রেড অ্যাক্টের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে শ্রমমান ও জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত তদন্তের ভিত্তিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৬টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন দেশভিত্তিক শুল্ককাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। ওয়াশিংটন সময় ২৪ জুলাই (২০২৬) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এটি বলবৎ হয়। নতুন এই নীতিতে ৬০টি অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত ৮৬টি দেশের পণ্যে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হয়েছে, যা পূর্বে বহাল থাকা অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থার স্থলাভিষিক্ত হলো।
ঘোষিত তালিকার ৮৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ মাত্র ১৭টি দেশকে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্কস্তরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রতিযোগী চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে সর্বোচ্চ ১২.৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দামের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে সরকার ও পরোক্ষ বাজার সংশ্লিষ্টরা।
নতুন শুল্কনীতির সার্বিক বিশ্লেষণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
- বাংলাদেশের সুবিধাজনক অবস্থান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শ্রমমান উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চলমান অগ্রগতির ফলেই বাংলাদেশ নিম্নতম ১০ শতাংশ শুল্ক স্তরে স্থান পেয়েছে। প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর পণ্যে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষ করে মূল্য-সংবেদনশীল তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হলো।
- আমদানি সংক্রান্ত টিআরকিউ (TRQ) সম্ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ অল্প কয়েকটি দেশের জন্য তিন বছর মেয়াদি ‘ট্যারিফ রেট কোটা’ (TRQ) চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে মার্কিন তুলা বা টেক্সটাইল কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অতিরিক্ত শুল্ক ছাড় পাওয়া যেতে পারে।
- সরকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের মন্তব্য: বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেন যে, কম শুল্ক সুবিধা ইতিবাচক হলেও জ্বালানি নিরাপত্তা (গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ) এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে এ সুবিধা ধরে রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি রাশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো বিকল্প বাজারে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) ওপর জোর দিয়েছেন তারা। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগের অস্থায়ী শুল্কের স্থান পূরণ করায় রপ্তানিতে হঠাৎ কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না।
- অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সতর্ক করে বলেছেন, শুধু কম শুল্কের ওপর ভরসা না করে টেকসই শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে, কারণ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন কর্মপরিবেশ ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতাকেও অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে।


















