শনিবার , ১৮ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

অবশেষে উঠে এল জিয়াউর রহমানের পলাতক খুনিকে গ্রেপ্তারের রুদ্ধশ্বাস অভিযানের গল্প

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১৮, ২০২৬ ১:১৬ অপরাহ্ণ

Spread the love

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে সামরিক আদালতের রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে পলাতক থাকা সাবেক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি). নিজের আসল নাম-পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলে এবং নিখুঁত ছদ্মবেশ ধারণ করে সুদীর্ঘকাল আত্মগোপনে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর. মূলত তাঁর মেয়ের বর্তমান কর্মস্থলের সূত্র এবং মোজাফফরের নাকের নিচে থাকা একটি চিরাচরিত জন্মদাগের ওপর ভিত্তি করে গত বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) গভীর রাতে রাজধানীর অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা বনানী ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ.

ডিবি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন অধরা থাকা এই শীর্ষ আসামিকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে তাঁর মেয়ের কর্মস্থলের তথ্যটি প্রথম ক্লু বা সূত্র হিসেবে কাজ করে. মোজাফফরের মেয়ে বর্তমানে ঢাকার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন. এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত কয়েক মাস ধরে মেয়ের দৈনন্দিন গতিবিধি ও কর্মস্থল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দারা বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বহুতল ভবন চিহ্নিত করেন. এরপর ছদ্মবেশে ওই বাড়িটি নজরদারিতে রাখার পর মোজাফফরের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি পুরোনো সূত্র—নাকের ঠিক নিচে থাকা একটি চেনা আঁচিল বা কালো জন্মদাগ—শনাক্তকরণের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়. বুধবার গভীর রাতে ডিবির একটি চৌকস দল সাধারণ পোশাকে ওই বাসায় গিয়ে কড়া নাড়ে এবং নিজেদের মেয়ের অফিসের সহকর্মী পরিচয় দিয়ে কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে. এ সময় এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি রাতে আসার কারণ জানতে এগিয়ে এলে বাড়ির অল্প আলোতেই ডিবির কর্মকর্তারা তাঁর নাকের নিচে থাকা সেই দাগটি দেখতে পান. অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য কর্মকর্তারা তাঁকে পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তিনি সরল বিশ্বাসে বলেন, “আমি মোজাফফর, মেয়ের বাবা.” নিজের মুখে এই জবানবন্দি দেওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরায়.

মামলার ঐতিহাসিক নথি ও তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থান এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী ছিলেন এই মেজর মোজাফফর. আক্রমণের রাতে তিনি ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন এবং মোজাফফর নিজেই সশরীরে রাষ্ট্রপতিকে কক্ষের বাইরে এনে শনাক্ত করার পর ঠান্ডা মাথায় সরাসরি গুলি চালান বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে. হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ফোনে ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা দিয়ে বলেছিলেন—‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’ (The President has been killed). পরবর্তীতে পরিস্থিতি সরকারি নিয়ন্ত্রণে এলে এবং জেনারেল মঞ্জুর নিহত হলে মোজাফফর ও তাঁর সহযোগী মেজর এস এম খালেদ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান.

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানকালে তিনি নিজের আসল পরিচয় পুরোপুরি মুছে ফেলে সম্পূর্ণ নতুন ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং চেহারা ও বেশভূষায় পরিবর্তন আনেন. কল ট্র্যাকিং এড়াতে তিনি পারিবারিক যোগাযোগের সব সূত্রও বিচ্ছিন্ন করেছিলেন. ১৯৯৭-১৯৯৮ সালের দিকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করার পাশাপাশি ভুয়া নাগরিকত্ব ও জাল নথির সাহায্যে পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি বিশ্বের একাধিক দেশ সফর করেন, যার কারণে ইন্টারপোল বা বাংলাদেশের গোয়েন্দারা দীর্ঘ সময় তাঁর হদিস পায়নি. জীবনের শেষভাগে এসে তিনি অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশে ফেরেন এবং বনানী ডিওএইচএসে নিজেকে রাজনীতিবিমুখ এক সাধারণ প্রবীণ নাগরিক হিসেবে প্রকাশ করে বসবাস শুরু করেন. গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ডিএমপি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেন যেহেতু একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, তাই প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আইন অনুযায়ী তাঁকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে এবং তাদের নিজস্ব বিচারিক প্রক্রিয়ার (জুডিশিয়াল প্রসেস) অধীনে হস্তান্তর করা হয়েছে.

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন পাস

ইসরায়েলের ‘নিঃশর্ত সমাপ্তি’ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না

গাজায় অভিযান সীমিতের নির্দেশ ইসরায়েল সরকারের

রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা সরানো সহজ নয়: সড়ক উপদেষ্টা

পুলিশ সেবা দিতে বাধ্য, সেবা পাওয়া জনগণের অধিকার

নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের দারুণ জয়

জাতিসংঘে আব্বাসের দাবি—তৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ক্ষোভ: “নেতানিয়াহু একটি জাতিকে ধ্বংস করছেন, ভারত তাকে সমর্থন ও উৎসাহও দিচ্ছে”

দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র

দাবানলের ধোঁয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করলেন ট্রাম্প