চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ থামাতে পর্দার আড়ালে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান. হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, এই খসড়া চুক্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
- বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল: হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের টোল আদায় ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা.
- নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণরূপে তুলে নেওয়া.
- পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা.
- অর্থ ও নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা: সংলাপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ইরানের জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা.
- মানবিক সহায়তা: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে যাতে প্রয়োজনীয় বাণিজ্য পণ্য ও মানবিক সহায়তা সহজে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য একটি বিশেষ কার্যপদ্ধতি প্রণয়ন করা.
- আঞ্চলিক শান্তি: এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়টিও বিশেষভাবে উল্লেখ থাকবে.
তবে এই শান্তি প্রস্তাব ও খসড়া চুক্তির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর, যিনি এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি. ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের মোহ সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে. এই কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে দুই দেশের মধ্যকার মাঠপর্যায়ের উত্তেজনা এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের ওপর ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে.
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি এক হুশিয়ারিতে বলেছেন, কোনোভাবেই ইরানিদের দুর্বল করতে পারবে না ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র. মাঠপর্যায়ের এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুটি পৃথক সংঘর্ষের খবর এসেছে. ইরানের বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির (IRGC) পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে যেকোনো সময় নস্যাৎ করতে পারে. এর মধ্যেই আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং নৌযান লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে. পাশাপাশি নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে বুশেহরে আরও একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান, যদিও পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে এই ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি অস্বীকার করেছে.
সূত্র: সিএনএন



















