মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রায় ২ বিলিয়ন (১.৯৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র. বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই, ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে. মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে নতুন করে আকাশপথে হামলার আশঙ্কার মুখেই তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে.
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ন্যাটোর বাইরের অন্যতম প্রধান মিত্র সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে. এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে. রিয়াদ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওয়ারহেডসহ ২০ হাজারটি অত্যন্ত আধুনিক ‘এপিকেডব্লিউএস’ (অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম) ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চেয়েছে. এই বিশেষ লেজার-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা একদিকে যেমন আকাশপথের আক্রমণ রুখতে ব্যবহার করা যায়, তেমনি প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালাতেও এটি অত্যন্ত কার্যকর. তুলনামূলক কম খরচে আকাশপথের হুমকি প্রতিহত করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি সামরিক সরঞ্জাম.
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, নিউ জার্সির নাশুয়াভিত্তিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘বিএই সিস্টেমস’ এই অস্ত্র চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে. এই বিপুল পরিমাণ যুদ্ধাস্ত্র হাতে পেলে সৌদি আরবের নিজস্ব আকাশসীমা রক্ষা করার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে. একই সাথে মার্কিন বাহিনী ও ন্যাটোভুক্ত অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সৌদি আরবের সমন্বয় রক্ষা করে যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও জোরদার হবে. মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, এই অস্ত্র বিক্রির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না.
সূত্র: আলজাজিরা


















