দেশে আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মাথা চাড়া দিতে না পারে, সে জন্য সরকারি ও বিরোধী দলসহ দেশের সর্বস্তরের রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান. গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই ঐক্যের ডাক দেন. ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখা পেশ করেন. একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা দেন এবং বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন.
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধাকে একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’. সংসদে ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান. তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাঁবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র ও জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে, যার প্রথম ধাপ হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা. এছাড়া নির্বাচনের আগে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার অক্ষরে অক্ষরে দায়বদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন.
শিক্ষা খাতকে বিগত স্বৈরাচারী আমলের ধ্বংসস্তূপ, অটো প্রমোশন ও বিতর্কিত সিলেবাসের হাত থেকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সিলেবাস সংশোধনের কাজ অলরেডি শুরু হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির (GDP) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে. সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতভিন্নতা থাকলেও কোনো ধরনের শত্রুতা বা প্রতিহিংসা থাকবে না, বরং দেশে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন. বাংলাদেশ যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদের কবলে না পড়ে এবং তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সেই প্রশ্নে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য সর্বদা অটুট থাকবে বলে সংসদ নেতা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন.


















