নারী শিক্ষার প্রসারের পর এবার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে বড় ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের সম্মানি ও বেতনভাতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে, যাতে শিক্ষকরা জীবনধারণের জন্য দ্বিতীয় কোনো পেশার দিকে না ঝুঁকে সম্পূর্ণ মনোযোগ শিক্ষার্থীদের পেছনে দিতে পারেন। আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরুর পর প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি ৪ জন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলের শিক্ষা নীতির তীব্র সমালোচনা করে মানবসম্পদ বা হিউম্যান রিসোর্স উন্নয়নের ওপর জোর দেন। শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মানি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন:
- অবকাঠামো বনাম মানবসম্পদ: স্বৈরাচার সরকারের সময় শুধু বড় বড় বিল্ডিং বা অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত মানবসম্পদ বা শিক্ষার গুণগত মানের কোনো উন্নতি হয়নি। আমরা এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।
- প্রশিক্ষণ ও সম্মানি বৃদ্ধি: শুধু আধুনিক ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, শিক্ষকদের সম্মানির পরিমাণও বাড়াতে হবে। তা না হলে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করা যায় না। সরকার পর্যায়ক্রমে এই সম্মানি বাড়ানোর কাজটি অবশ্যই করবে, ইনশাআল্লাহ।
- দ্বিতীয় পেশার নির্ভরতা কমানো: প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা অনেক সময় দেখেছি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষকরা সংসার চালাতে কষ্ট হওয়ায় দ্রুত ক্লাস শেষ করে কোনো কৃষি কাজ বা অন্য কোনো পার্ট-টাইম জবে চলে যান।” শিক্ষকরা যাতে এই বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশের শিক্ষার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চলতি বাজেটে জিডিপির (GDP) ২ শতাংশ সরাসরি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস এবং চীনে কাঁঠাল রপ্তানির নতুন দিগন্ত
সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আগের ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করে আশ্বস্ত করেন যে, দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর সকলের কাছে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রকল্প দেশের সকল সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকাতেই সমানভাবে বাস্তবায়িত হবে।
| বিষয়ের বিবরণ | সরকারি পরিকল্পনা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্য |
| প্রাথমিক শিক্ষা সহায়তা | ৬৫,০০০ সরকারি স্কুলে ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে ড্রেস ও ব্যাগ প্রদান। |
| শিক্ষা খাতে বাজেট | শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে চলতি বাজেটে জিডিপির ২% বরাদ্দ। |
| চীনে কাঁঠাল রপ্তানি | চীন সফরের চুক্তি অনুযায়ী দেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল বেইজিংয়ে রপ্তানি শুরু হবে। |
| মালয়েশিয়ার ডুরিয়ান মডেল | মালয়েশিয়া চীনে $১ বিলিয়নের ডুরিয়ান বেচতে পারলে, বাংলাদেশও কাঁঠালে সফল হবে। |
অধিবেশনে চীনে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল রপ্তানি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক চীন সফরে দেশটির সরকারের সাথে কাঁঠাল রপ্তানি বিষয়ক একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চাইনিজ নাগরিকরা বাংলাদেশের কাঁঠাল অত্যন্ত পছন্দ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা টেনে বলেন, “মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আমাকে জানিয়েছেন যে তারা প্রতি বছর চীনে ১ বিলিয়ন ডলারের ‘ডুরিয়ান’ (কাঁঠাল সদৃশ ফল) এক্সপোর্ট করে। তারা পারলে আমরাও কাঁঠাল রপ্তানির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।”


















