দেশের বিভিন্ন খাতে চলমান চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। চাঁদাবাজদের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বা ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় অভিযান শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিরপেক্ষ তালিকা ও জিরো টলারেন্স
র্যাব পরিচালক স্পষ্ট করেছেন যে, এই তালিকায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা: মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনার পর র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
- কাউকে ছাড় নয়: রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যা-ই হোক না কেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তালিকায় নাম উঠবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২. চাঁদাবাজির পরিধি ও গোয়েন্দা নজরদারি
র্যাব কেবল একটি নির্দিষ্ট খাতে নয়, বরং বহুমুখী চাঁদাবাজি রোধে কাজ করছে:
- পরিবহন খাত: মহাসড়ক কেন্দ্রিক পরিবহন চাঁদাবাজি।
- বাজার সিন্ডিকেট: নিত্যপণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় (যা মূলত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়)।
- প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি: বিভিন্ন ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়।
- তথ্য সংগ্রহ: অনেক ভুক্তভোগী ভয়ে অভিযোগ করেন না, তাই র্যাব মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন গোপন উৎস থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই তালিকা করছে।
৩. অভিযান শুরুর সময়
এক প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং অভিযান শুরু হতে আর সময় লাগবে না। তিনি বলেন, “অভিযান আজ থেকেই শুরু হতে পারে।” অর্থাৎ, তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ধরতে র্যাব এখন যেকোনো মুহূর্তে মাঠে নামতে প্রস্তুত।
৪. বর্তমান প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
বর্তমানে দেশে ভোজ্যতেল ও জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে যে অস্থিরতা চলছে, তার পেছনে অসাধু সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের হাত রয়েছে বলে সাধারণ মানুষের ধারণা। বিশেষ করে আজ সকালেই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের সমালোচনা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে র্যাবের এই কঠোর বার্তা সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই চাঁদাবাজবিরোধী অভিযান একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















