ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনাভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ইরান সরকার অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিক্ষোভকারীদের উসকানি ও মদত দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা ৫৩টি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, “কোনো ইরানি কখনও মসজিদে হামলা করতে পারে না,” যা থেকে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এদিকে সোমবার লাখ লাখ মানুষ সরকারের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে। তারা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের’ বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জবাবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
তবে এই উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা আছে।
আরাগচি দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখন “পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে” এবং ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
মার্কিন গণমাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা, সাইবার আক্রমণ, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধী পক্ষকে সহায়তার মতো একাধিক বিকল্প প্রস্তুত রেখেছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপে ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি



















