মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক আকস্মিক ও বিধ্বংসী বিমান হামলার মাধ্যমে খামেনিকে হত্যা করা হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চলমান খামেনির জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ইরানি সামরিক প্রধান, যা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ইরানের সরাসরি যুদ্ধের ডাক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
‘শহীদ নেতার রক্তের প্রতিটি ফোঁটার বদলা নেওয়া হবে’
সাংবাদিকদের সামনে হুংকার ছেড়ে মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, “আমরা পূর্বের চেয়ে আরও দৃঢ় সংকল্পের সাথে ইরানি জাতির মূল শত্রু—আমেরিকা এবং অপরাধী জায়নবাদী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করছি যে আমাদের শহীদ নেতা খামেনির পবিত্র রক্তের প্রতিটি ফোঁটার প্রতিশোধ আমরা নেবই। এই কাপুরুষোচিত ও বর্বর হামলার চড়া মূল্য অচিরেই তাদের চোকাতে হবে।” শোকগ্রস্ত ও ক্ষুব্ধ জনতার উপস্থিতিতে দেওয়া সামরিক প্রধানের এমন অনড় বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, ইরান কেবল এই শোক কাটিয়ে ওঠার লড়াই করছে না, বরং মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত বা ব্যাপক সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আশঙ্কা
খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক ভয়াবহ ও চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্টেশ) এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতিমধ্যেই তাদের সর্বোচ্চ যুদ্ধপ্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই অঞ্চলে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। যেকোনো সময় এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে এক অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল।
সূত্র: আল-জাজিরা।


















