মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন প্রথমবারের মতো তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছে ইরান। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মহান নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং একনজর দেখতে ভোর থেকেই সেখানে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। খামেনির কফিনের ওপর ইরানের পবিত্র মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা (আ.) মাজারের প্রতীকী লাল পতাকা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে তাঁর স্মরণে শুরু হওয়া ৬ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে রূপ নিয়েছে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদের এই ইমাম রেজা মাজারেই খামেনিকে চূড়ান্তভাবে দাফন করা হবে।
লাল পতাকার শিয়া প্রতীকী গুরুত্ব ও কারবালার চেতনা
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামি রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি খামেনির কফিনে মোড়ানো লাল পতাকার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, শিয়া ইসলামি সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে এই লাল পতাকাটি গভীর প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। এটি মূলত মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন ইবনে আলির ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের প্রতীক, যিনি সপ্তম শতাব্দীতে কারবালার প্রান্তরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেছিলেন এবং শিয়া মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক শ্রদ্ধেয় ও প্রেরণার ব্যক্তিত্ব। খামেনির কফিনে এই লাল পতাকা জড়ানোর অর্থ হলো, ইরান তাঁর এই মৃত্যুকে একটি ‘মহৎ শাহাদাত’ হিসেবে দেখছে এবং এর মাধ্যমে তারা মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ও প্রতিশোধের চেতনাকে আরও তীব্র করার বার্তা দিচ্ছে।


















