শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬ | ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

রায়পুর হত্যাকাণ্ড: প্রতিবেশী রানীর বুদ্ধিমত্তায় ঘাতক আটক

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ২৬, ২০২৬ ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় এখনও বইছে শোকের মাতম। তবে ঘটনার সময় পাশের বাড়ির বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানীর অসীম সাহস ও তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তার কারণে ঘাতক অন্তর মজুমদার ঘর থেকে পালিয়ে যেতে পারেনি। যদিও চোখের সামনে চারটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়া এবং কাউকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপ ও ব্যর্থতার গ্লানি রানীকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রতিবেশী রানীর চোখের সামনে সেই লোমহর্ষক মুহূর্ত

ঘটনার দিন সকালে পাশের বাসা থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে ছুটে যান আফরোজা বেগম রানী। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে গৃহকর্ত্রী শাহিনুর বেগমকে ডাকলেও ততক্ষণে ভেতর থেকে সাড়াশব্দ বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর রান্নাঘরের দিকে কাউকে হেঁটে যেতে দেখে শাহিনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত ভেবে ডাকেন রানী। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না দিয়ে জানালাটি আটকে দেওয়া হয়।

রানী আবারও জানালার কাছে এগিয়ে গেলে এক অচেনা যুবককে প্যান্ট হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। যুবকটি নিজেকে ‘পাইপলাইনের মিস্ত্রি’ দাবি করলেও তার হাতে প্যান্ট দেখে রানীর মনে তীব্র সন্দেহের দানা বাঁধে। তিনি ধারণা করেন, শাহিনুরের অনুপস্থিতিতে এই যুবক মেয়েদের কোনো ক্ষতি করেছে। রানী আর কালক্ষেপণ না করে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বাইরে থেকে ঘরের প্রধান ফটক (মেইন গেট) আটকে দেন এবং চিৎকার করে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন।

বীভৎস দৃশ্য ও ছাদে গণপিটুনি

রানীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে দরজা খুলে ঘরের ভেতর প্রবেশ করতেই এক বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। পুরো ঘরের মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছিল এবং প্রত্যেকের শরীরেই ছিল ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত। এমনকি মেজো মেয়ে ইকরার ফুসফুস বের হয়ে ছিল (যিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেকে চিকিৎসাধীন)। প্রতিবেশীদের ঢুকতে দেখে ঘাতক যুবকটি দৌড়ে বাসার ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তবে ততক্ষণে সেখানে শত শত উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়ে ছাদে উঠে তাকে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনির শিকার হয়ে পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারটির অতীত সংগ্রাম ও সন্তানদের মেধার গল্প

নিহত শাহিনুর বেগমের পরিবারটি অত্যন্ত সজ্জন ও সংগ্রামী ছিল। পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কামাল হোসেন সিলভারের হাঁড়ি-পাতিল ফেরি করে বিক্রি করতেন। ২০১৯ সালের দিকে রায়পুরের মোল্লারহাট এলাকায় মাটিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তিনি মারা যান। এরপর থেকে সন্তানদের নিয়ে শাহিনুর বেগম ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং প্রতিবেশীরাও তাঁদের স্নেহ করতেন।

কষ্টের মাঝেও শাহিনুরের সন্তানেরা পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিল:

  • সায়মা আক্তার (বড় মেয়ে): আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধ্যয়নরত ছিলেন।
  • সিফাত (একমাত্র ছেলে): রায়পুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ‘হায়দার এন্টারপ্রাইজ’-এ চাকরি করে সংসারের হাল ধরেছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
  • ইকরা আক্তার (মেজো মেয়ে): লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী (পূর্ববর্তী তথ্যে কাজী ফারুকী কলেজ উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত)।
  • শিফা আক্তার (ছোট মেয়ে): মার্চেন্টস একাডেমির শিক্ষার্থী ছিল।

কে এই ঘাতক অন্তর মজুমদার?

গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। সে সুবর্ণচরের কার্তিক মজুমদারের ছেলে। রায়পুরে থাকাকালীন সে একসময় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করত। প্রতিবেশী রানী তাকে আগে কখনো না দেখলেও ঘটনার পর স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, এই ঘাতক যুবকটি মূলত কয়েক বছর আগে এই আমির হোসেন মাস্টারের ভবনেই ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করত। তবে ঠিক কী কারণে সে এমন নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ - অপরাধ