রেকর্ড জয় ও হাসনাত আবদুল্লাহর আধিপত্য কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ও জামায়াত সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাতে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, এই আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের সবকটিতেই তিনি জয়লাভ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে সকালে তিনি উপজেলার গোপালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন।
জসিম উদ্দিনের ভোট বর্জন ও হারের চিত্র অন্যদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী (বিএনপি সমর্থিত) জসিম উদ্দিন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি নির্বাচন বয়কট করলেও দেখা গেছে, তিনি তাঁর নিজের কেন্দ্রেও হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে ৭৬৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এই আসনে জসিম উদ্দিনের ‘ট্রাক’ প্রতীকে মোট ভোট পড়েছে মাত্র ২৬ হাজার। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ঋণখেলাপির দায়ে বাতিল হওয়ায় বিএনপি জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছিল, তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মঞ্জু মুন্সীর বহিষ্কার এই আসনের নির্বাচনী লড়াই রাজনৈতিকভাবে বেশ নাটকীয় ছিল। বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ছিটকে পড়ার পর তিনি জসিম উদ্দিনের পক্ষে মাঠে নামেন। তবে প্রচারণার শেষ দিকে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মঞ্জু মুন্সীকে বহিষ্কার করে। এর ফলে হাসনাত আবদুল্লাহর বিজয় অনেকটা সহজ হয়ে যায়। ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে নারী ও তরুণ প্রজন্মের বিশাল অংশগ্রহণ হাসনাতের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের জয়কে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের ভোটার পরিসংখ্যান
- মোট ভোটার: ৪,১০,৫৫৯ জন।
- পুরুষ ভোটার: ২,১৫,২৩৭ জন।
- নারী ভোটার: ১,৯৫,৩১৯ জন।
- তৃতীয় লিঙ্গ: ৩ জন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফলাফল নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বিজয় দেবিদ্বারের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করল বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।



















