যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ একটি উত্তপ্ত সাক্ষাৎকার চলাকালীন মাঝপথেই ক্ষুব্ধ হয়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে গেছেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ও জনপ্রিয় উপস্থাপক ক্রস্টেন ওয়েল্কারের বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান ট্রাম্প। তিনি উপস্থাপককে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি হয় অসৎ, নয়তো নির্বোধ।” এরপর তিনি পুরো সাক্ষাৎকারটি শেষ না করেই আকস্মিকভাবে স্টুডিও ত্যাগ করেন। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূলত দেশের বর্তমান অভিবাসন নীতি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, নির্বাচনী রাজনীতি এবং তার প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ক্রমশ বিরক্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি উপস্থাপকের করা প্রশ্নগুলোকে সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দেন।
ঘটনা ও হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া
সাক্ষাৎকারটির শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:
- ট্রাম্পের প্রস্থান: প্রশ্নোত্তরের একদম শেষদিকে ট্রাম্প অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বলেন, “আমার যথেষ্ট হয়েছে, ধন্যবাদ ডার্লিং।” এই কথা বলেই তিনি নিজের আসন ছেড়ে উঠে চলে যান। পুরো ঘটনাটি টেলিভিশনে সম্প্রচারের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনার জন্ম দেয়।
- হোয়াইট হাউসের সমর্থন: ঘটনার পর হোয়াইট হাউস-ঘনিষ্ঠ মহল ট্রাম্পের এই অবস্থান ও আচরণকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে। তাদের দাবি, ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বারবার একই ধরনের ‘ভ্রান্ত ও উদ্দেশ্যমূলক’ প্রশ্নের মুখোমুখি করা হচ্ছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
- সমালোচকদের বক্তব্য: অন্যদিকে ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকদের মতে, গণমাধ্যমের কঠিন ও যৌক্তিক প্রশ্নের মুখে একজন দেশের শীর্ষ রাষ্ট্রনেতার এমন আচরণ অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এটি মূলত মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি তার চরম অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ বলে তারা মন্তব্য করেন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনী প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সে দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক দিন দিন আরও বেশি জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সাম্প্রতিক এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি মূলত সেই দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাসেরই আরেকটি প্রকাশ্য রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। (তথ্য সূত্র- এনডিটিভি, ইয়াহু নিউজ)।



















