বুধবার , ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

যেসব দেশে আটকে আছে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার!

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

Spread the love

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৩৯ দিনের ভয়াবহ সংঘাতের পর বর্তমানে পাকিস্তানে যে শান্তি আলোচনা চলছে, তার অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ। তেহরানের জন্য এই অর্থ উদ্ধার করা এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার খবরটি অস্বীকার করেছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অর্থই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির মূল চাবিকাঠি।

জব্দকৃত সম্পদের পরিমাণ ও অবস্থান

ইরানের ঠিক কত পরিমাণ অর্থ বিদেশে আটকে আছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এর পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। এই বিপুল অর্থ মূলত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, চীন, জার্মানি, ভারত ও তুরস্কের মতো দেশগুলোতে। ঐতিহাসিক কারণে ইরানের তেলের বড় গ্রাহক হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানেই এই অর্থের বড় একটি অংশ জমা পড়ে আছে।

কেন এই সম্পদ তেহরানের জন্য জরুরি?

বর্তমানে ইরান এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ৬৮.১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’ চরমভাবে মূল্য হারিয়েছে এবং দেশটিতে তীব্র ডলার সংকট তৈরি হয়েছে। আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশি মুদ্রার অভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় জব্দকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া তেহরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতি সচল করার একমাত্র পথ।

সম্পদ জব্দের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস

ইরানের সম্পদ জব্দের ঘটনাটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান এবং এটি কয়েকটি ধাপে ঘটেছে:

  • ১৯৭৯ সালের বিপ্লব: মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার প্রথম ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে কিছু অর্থ ছাড় করা হলেও বড় একটি অংশ মার্কিন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ ও আইনি লড়াইয়ের জন্য আটকে যায়।
  • পরমাণু কর্মসূচি: ইরানের পরমাণু ও মিসাইল কর্মসূচির অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়তে থাকে, যা সম্পদ জব্দের পরিমাণকেও বিশাল আকার দেয়।
  • ২০১৮ সালের বড় ধাক্কা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কার্যকর করলে ইরানের সম্পদ আবারও পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।

অতীতে যেভাবে অর্থ ছাড় হয়েছে

এর আগে কয়েকবার শর্তসাপেক্ষে ইরানকে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে বন্দি বিনিময়ের শর্তে দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেই অর্থ ব্যবহারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল—ইরান শুধুমাত্র খাদ্য ও ওষুধ কেনার মতো মানবিক প্রয়োজনে তা ব্যয় করতে পারত। বর্তমান ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরান এই অর্থের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ - অপরাধ