কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে এক নারী সহকর্মীকে পাশবিক কায়দায় যৌন নিপীড়ন, ব্ল্যাকমেইল ও প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার (২৪ মে) সকালে ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মকর্তা স্বয়ং নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসকক্ষে উপস্থিত স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সামনে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগসমূহ তুলে ধরেন। নারী সহকর্মী সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলায় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী পুলিশ ডাকেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি উচ্চবাক্য সংবলিত ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগী নারীর স্পষ্ট দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে নানাভাবে মানসিক হয়রানি করে আসছিলেন। এমনকি অফিসের কাজের ঠুনকো অজুহাতে সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও তাঁকে জোরপূর্বক অফিসে একাকী ডেকে এনে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক কুপ্রস্তাব দিতেন; কিন্তু তিনি সেসব নোংরা প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী আরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি দপ্তরের বিভিন্ন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজের লটারি পরিচালনায় নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের ব্যাপক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম করেন। গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) এই অন্যায্য লটারির বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে নির্বাহী প্রকৌশলীর মূল কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই অফিসের বিভিন্ন স্তরের আরও সাতজন কর্মকর্তা ও বিশ্বস্ত কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত সবার সামনে তাঁকে প্রথমে চরমভাবে অকথ্য ভাষায় অপমান ও হেনস্তা করা হয় এবং একপর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর এক স্টাফকে নির্দেশ দেন ওই নারীকে শক্ত করে ধরে রাখতে। বসের নির্দেশে সেই স্টাফ তাঁর দুই হাত পেছন থেকে চেপে ধরলে নির্বাহী প্রকৌশলী স্বয়ং তাঁর শরীরে আপত্তিকরভাবে হাত দেন এবং প্রকাশ্য দিবালোকে উপুর্যপরি যৌন নির্যাতন চালান। ভুক্তভোগীর দাবি, এই পৈশাচিক ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে শাস্তিস্বরূপ পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়, যা মূলত অপরাধ ধামাচাপা দেওয়া এবং তাঁকে চিরতরে চুপ করিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। তিনি এই পৈশাচিক লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উচ্চপর্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত পৈশাচিক ও প্রশাসনিক অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার ও নাকচ করে দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের। সাংবাদিকদের কাছে নিজের আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি দাবি করেন, সরকারি প্রশাসনিক নিয়মানুযায়ী ওই নারীর পটুয়াখালীতে বদলির আদেশ হওয়ার বিষয়টি জানার পর থেকেই তিনি ক্ষুব্ধ ও হিংসাত্মক হয়ে উঠেছেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে এসব অবাস্তব, মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন যে, গতকাল সকালে ওই নারী দলবল নিয়ে এসে তাঁকে তাঁর নিজের অফিসকক্ষেই বেআইনিভাবে অবরুদ্ধ ও আটকে রেখেছিলেন এবং এমতাবস্থায় তিনি নিজের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে পুলিশ ডেকেছেন। এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার সন্ধ্যায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ওই কার্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। প্রাথমিকভাবে দাপ্তরিক বদলির আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও যৌন হয়রানি বা হেনস্তার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















