বুধবার , ২০ মে ২০২৬ | ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

কোরবানির ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
মে ২০, ২০২৬ ২:১৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নগদ টাকার চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়লেও ব্যাংকগুলোতে চলছে তীব্র ক্যাশ বা নগদ নোটের সংকট। গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত চাহিদা মেটাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দৈনিক হাজার হাজার কোটি টাকার চাহিদাপত্র দিলেও তার বিপরীতে মিলছে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বা তারও কম টাকা। উদাহরণস্বরূপ, একটি বেসরকারি ব্যাংক ৪ হাজার কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে এক সপ্তাহে পেয়েছে মাত্র দেড় হাজার কোটি টাকা এবং অপর একটি ব্যাংক ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা চেয়ে পেয়েছে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা। প্রথম প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংকের গত ১০ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত প্রতিদিনের ৪00 থেকে ৭০০ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১২০ থেকে ৪৩০ কোটি টাকা পাওয়ার নথিপত্র এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না পাওয়ায় তাঁরা গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত পেমেন্ট দিতে পারছেন না, যা ঈদের আগে পশুর হাট ও সাধারণ কেনাকাটায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

টাঁকশালের কাগজ-কালি সংকট ও বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট না ছাড়ার সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ টাঁকশালের (সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন) কাছে অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা দিয়েছিল। তবে টাঁকশাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজ ও কালির তীব্র সংকটের কারণে ঈদের আগে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট সরবরাহ করা সম্ভব। অথচ বর্তমানে টাঁকশালে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তৈরি ও অর্ধপ্রস্তুত নোট পড়ে আছে, যা চাইলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে ছাড়া সম্ভব। কিন্তু ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আপাতত এই ছবিযুক্ত পুরোনো নোট বাজারে না ছাড়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নকশার নোট ছাপানোর জন্য বিদেশ থেকে কাগজ-কালি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সময়স্বল্পতার কারণে ঈদের আগে সেই নোট বাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নতুন নোটের জোগান ও চাহিদা চিত্র:
┌──────────────────────────┐      ┌──────────────────────────┐      ┌──────────────────────────┐
│  ঈদে মোট নতুন নোটের চাহিদা  │ ───> │ টাঁকশালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা │ ───> │ অবিক্রীত পুরোনো নোটের মজুদ│
│    ১৬,০০০ কোটি টাকা      │      │     ৮,০০০ কোটি টাকা      │      │    ১৫,৮০০ কোটি টাকা      │
└──────────────────────────┘      └──────────────────────────┘      └──────────────────────────┘

তারল্য সংকট বনাম ছাপানো নোটের ঘাটতি এবং বাজারে ছেঁড়া-ফাটা টাকার ভিড়: অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাতের মূল ‘তারল্য সংকট’ (Liquidity Crisis) নয়, এটি মূলত ‘ছাপানো কাগজের নোটের’ সংকট। বর্তমানে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে আমানত বা সঞ্চয় রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা, যার বিপরীতে বাজারে ছাপানো নোটের প্রকৃত চাহিদা ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। সাধারণত ব্যাংকগুলোর ১২ হাজার শাখার ভল্টে ১৬ থেকে ২০ হাজার কোটি এবং বাংলাদেশ ও সোনালী ব্যাংকের চেস্টে ১৪ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা জমা থাকে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকগুলো বাজার থেকে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট তুলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিয়ে নতুন নোট নেয়। কিন্তু বর্তমানে নতুন নোটের সরবরাহ না থাকায় ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে বাজার থেকে ছেঁড়া-ফাটা নোট তোলা বন্ধ রেখেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের হাতে প্রচুর ব্যবহারের অযোগ্য নোট ঘুরপাক খাচ্ছে।

একযোগে সব নোটের নকশা বদলের মাশুল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আশ্বাস: বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বর্তমান সংকটের গভীরতা স্বীকার করে বলেন, সাধারণত যেকোনো দেশে নোটের নকশা পরিবর্তন বা রূপান্তর একটি একটি করে ধাপে ধাপে করা হয়, যাতে বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সরকারের নির্দেশনায় একযোগে সব মূল্যমানের নোটের ডিজাইন পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একটি নতুন নোটের নকশা চূড়ান্ত করে তা বাজারে আনতে সাধারণত ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। একযোগে সব নোটের জোগান বন্ধ করে নতুন রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করায় চাহিদার সাথে জোগানের এই বিশাল ঐতিহাসিক ফারাক তৈরি হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইতিমধ্যে বিকল্প উপায়ে নতুন টাকা ছাপানোর প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা দেওয়া শুরু হবে, যা দ্রুতই এই নগদ টাকার সাময়িক সংকট দূর করবে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

সাফ উইমেন’স ফুটসালে দুর্দান্ত জয়, মালদ্বীপের বিপক্ষে ইতিহাস বাংলাদেশের

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ১২ কোটি টাকা

সিটি মিনিস্টার পদ থেকে টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগ

রাষ্ট্রপতির ভাষণ: পুলিশ সংস্কার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন রোডম্যাপ

‘কমপ্লিট শাটডাউন’—প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন বার্তা

কণার সংসার ভাঙার ঘোষণা, স্বামীর পোস্ট নিয়ে বিভ্রান্তি

চিন্তার স্খলন রোধে বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চা ও সহনশীলতার আহ্বান

ইস্রায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানালেন ট্রাম্প

জাতীয় সংসদে ‘অসত্য’ বনাম ‘মিথ্যা’: বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাকযুদ্ধ

পাকিস্তানে চার দিনে সংঘর্ষে ৬৪ জন নিহত