ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিগত শাসনামলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহারের সমালোচনা করেন এবং একটি পেশাদার বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার পুলিশকে আধুনিক, দক্ষ এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
পুলিশ সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে পুলিশ বাহিনীর আমূল পরিবর্তনের লক্ষে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন:
- সংস্কার কমিশন: ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গঠিত ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’-এর মাধ্যমে সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণের কাজ চলছে।
- নতুন নিয়োগ: পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার আরও ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (SI) এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া ১৮০টি সার্জেন্ট পদের নিয়োগও দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।
- ডিজিটাল সেবা: অনলাইনে অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন:
- বিশেষ অভিযান: সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত অনলাইন জুয়া এবং মাদকের বিস্তার রোধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
- অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার: অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও হাতবোমা উদ্ধারসহ চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- কারাগার ব্যবস্থাপনা: প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ‘১৬১৯১’ কল সেন্টারের পাশাপাশি ৫টি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে।
বাহিনীসমূহের ভূমিকা ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের মানুষ ঘরে-বাইরে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাবেন।



















