বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। সোমবার দক্ষিণ কোরীয় বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এইচএমএম নামু’-তে রহস্যময় বিস্ফোরণ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিন নৌবাহিনীকে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না এবং মার্কিন উদ্যোগটি কার্যত কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও বৈশ্বিক প্রভাব হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক, অন্যদিকে ইরান আগে যুদ্ধ বন্ধ এবং প্রণালী সংকট সমাধানের শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যদিও পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান চলছে, তবে স্থায়ী কোনো সমাধানের লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মতে, এই সংঘাতের কারণে প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও শত শত জাহাজ বর্তমানে উপসাগরে আটকে আছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে প্রভাব আন্তর্জাতিক এই অস্থিতিশীলতা যখন তুঙ্গে, তখন বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম চলছে। অর্থমন্ত্রী যেখানে ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলছেন এবং সিলেটে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সেখানে বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধি আমাদের আমদানি ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। আইনি সহায়তা সহজ করা এবং ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’র মতো জনবান্ধব উদ্যোগগুলো সফল করতে হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।



















