চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা এবং গণহারে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে এবং সড়ক ও পরিবহনের নিরাপত্তার দাবিতে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী ‘বোগদাদ’ ও ‘আইদি’ পরিবহনের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার (২০ মে) রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই আঞ্চলিক মহাসড়কে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
১৫টি বাস ভাঙচুর ও ২০ শ্রমিক আহত: পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, বুধবার রাতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বলাখাল বাজার এলাকায় অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা সেখানে অবস্থানরত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের অন্তত ১৫টি বাস ভাঙচুর করে। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তবে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আহত অবস্থায় ১২ জন শ্রমিক সেখানে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন—মো. হান্নান (২৮), আকরাম হোসেন (৩০), আমজাদ হোসেন (৩০), ইমান হোসেন (২৩), নাহিদ (২০), রেজাউল করিম (৩৬), আবুল হোসেন (৪১), হৃদয় হোসেন (২৫), মো. সুমন (৪৫), আকাশ (২০), শাহআলম (২৬) ও রিদয় হোসেন (২৪)।
হাজীগঞ্জে পরিবহন ধর্মঘটের মূল চিত্র:
┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐ ┌─────────────────────────┐
│ বুধবার রাতে বলাখাল বাজারে │ ───> │ ১৫টি বাস ভাঙচুর ও │ ───> │ কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে │
│ শ্রমিকদের ওপর হামলা │ │ ২০ জন পরিবহন শ্রমিক আহত │ │ বাস চলাচল অনির্দিষ্টকাল বন্ধ│
└─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘ └─────────────────────────┘
স্কুল মাঠে অবরুদ্ধ করে মারধর ও বর্তমান পরিস্থিতি: আহত শ্রমিক ও বোগদাদ পরিবহনের সুপারভাইজাররা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে বাসগুলো পার্কিং করে চালক ও শ্রমিকরা গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে বাসের দরজা ভেঙে শ্রমিকদের বেদম মারধর শুরু করে এবং একের পর এক গাড়ির কাচ ও বডি ভাঙচুর করে। বলাখাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী জানান, অন্ধকারে আকস্মিকভাবে ঘটনাটি ঘটায় হামলাকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে চেনা সম্ভব হয়নি। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার কাজ চলছে।



















