যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ টিকা গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোধে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে করা একটি নতুন গবেষণাপত্র প্রকাশে বাধা দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ও মানব সেবা দপ্তর (এইচএইচএস)। বুধবার দপ্তরটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গবেষণার পদ্ধতিগত ত্রুটি বা ‘মেথডোলজি’ নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর প্রকাশনা স্থগিত করা হয়েছে।
গবেষণাপত্রটি মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা ‘মর্বিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্ট’ (MMWR)-এ প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল।
গবেষণার মূল প্রাপ্তি ও পদ্ধতি
সাধারণত বাস্তব সময়ে টিকার কার্যকারিতা যাচাই করতে হাসপাতালে আসা রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গবেষণায় দেখা গেছে:
- ঝুঁকি হ্রাস: গত শীত মৌসুমে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জরুরি বিভাগে যাওয়া বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫০% বা অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে কোভিড টিকা।
- পদ্ধতি: টিকা নেওয়া ও না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোভিড পজিটিভ হওয়ার হারের তুলনা করে এই ফলাফল বের করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি।
বিতর্ক ও উদ্বেগের কারণ
এইচএইচএস-এর দাবি, আগের সংক্রমণ, ব্যক্তিগত আচরণ এবং কারা চিকিৎসা নিতে আসছেন—এই বিষয়গুলো গবেষণার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অনেক বিজ্ঞানী এই দাবির সাথে একমত নন।
- বিশেষজ্ঞ মত: আটলান্টাভিত্তিক চিকিৎসক ফিওনা হ্যাভার্স জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধিকাংশ মানুষই আগে সংক্রমিত হয়েছেন, তাই এটি বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বাস্তব সময়ে টিকার মান যাচাইয়ে এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি এখনো নেই।
- রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভয় পাচ্ছেন যে, রাজনৈতিক কারণে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর সেন্সরশিপ চালানো হতে পারে। গত বছর MMWR-এর প্রকাশনা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া এবং এর পরিধি কমে যাওয়া সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সিনেটর ডিক ডারবিন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের কণ্ঠরোধ করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি সিডিসিকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন যাতে চিকিৎসকরা নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য পেতে পারেন।



















