বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সময়সীমা আর না বাড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতসহ বিভিন্ন দেশকে রুশ ও ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে যে বিশেষ ছাড় (ওয়েভার) দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর নবায়ন করা হবে না। ওয়াশিংটনের এই নতুন অবস্থানের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, গত ১১ মার্চের আগে সমুদ্রে থাকা তেলের চালানের জন্যই কেবল এই ছাড় প্রযোজ্য ছিল এবং সেই সুযোগ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়লে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন এই সাময়িক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সুযোগে ভারতের শোধনাগারগুলো প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল রুশ তেলের ফরমাশ দিয়েছিল এবং দীর্ঘ সাত বছর পর ইরানের দুটি সুপারট্যাঙ্কারও ভারতের বন্দরে নোঙর করেছিল। কিন্তু নতুন এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে নয়াদিল্লির এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে শুরু থেকেই ডেমোক্র্যাট শিবিরের তীব্র সমালোচনা ছিল। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এবং চাক শুমারের মতো প্রভাবশালী বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছিলেন যে, এই ছাড়ের ফলে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলে প্রতিদিন বিপুল অর্থ জমা হচ্ছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সুবিধা দিচ্ছে। তাঁরা এই নীতিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত তা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং বৈশ্বিক কৌশলগত কারণে ওয়াশিংটন তাদের ‘সর্বোচ্চ চাপের’ (Maximum Pressure) নীতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। এর ফলে ভারতসহ আমদানিকারক দেশগুলোকে এখন বিকল্প উৎসের সন্ধানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি



















