মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা নিরসনে এবং লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। শুক্রবার সকালেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৯৮ ডলারের উপরে থাকলেও, তেহরানের এই ঘোষণার পরপরই তা এক লাফে ৮৮ ডলারে নেমে আসে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয় এবং এক পর্যায়ে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তেলের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা ইরানের বর্তমান সিদ্ধান্তে অনেকটাই প্রশমিত হওয়ার পথে।
এদিকে, ইরানের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের সাথে পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ আগের মতোই বহাল থাকবে। কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেও হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি


















