অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দেশটির ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন একজন নারী কর্মকর্তা। ৩৯ বছরের বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারের অধিকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাস থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবেন।
অস্ট্রেলীয় সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঐতিহাসিক নিয়োগ ও ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন:
- কার্যভার গ্রহণ: লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। তার মেয়াদ শুরু হবে জুলাই ২০২৬ থেকে।
- ঐতিহাসিক গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ এই নিয়োগকে ‘অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম’ হিসেবে অভিহিত করে একে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২. সুসান কয়েলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং পদে দায়িত্ব পালন করেছেন:
- বর্তমান পদ: বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ‘চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ হিসেবে কর্মরত আছেন।
- অভিজ্ঞতা: কর্মজীবনে তিনি বেশ কয়েকটি ঊর্ধ্বতন কমান্ড পদের দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করেছেন, যা তাকে এই শীর্ষ পদের জন্য যোগ্যতম হিসেবে গড়ে তুলেছে।
৩. অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (ADF) নারী অংশগ্রহণ
লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েলের এই নিয়োগ অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীতে জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ার এক বড় প্রতিফলন:
- নারীদের হার: বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের হার প্রায় ২১ শতাংশ এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে এই হার ১৮.৫ শতাংশ।
- ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা: এডিএফ (ADF) ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনীতে নারীদের সার্বিক অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
- অনুপ্রেরণা: প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস মনে করেন, সুসানের এই অর্জন বর্তমানে কর্মরত নারী সেনাদের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যারা বাহিনীতে যোগ দিতে চান, তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
৪. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনী এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নিলো, যখন র্যাংকে নারী কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বাহিনীতে যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ নিরসনে দেশটি বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুসান কয়েলের নেতৃত্ব এই সংকটগুলো কাটিয়ে উঠে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেনাবাহিনী গঠনে সহায়ক হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আজকের দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সংঘর্ষ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মতো উত্তপ্ত খবরের মাঝে অস্ট্রেলিয়ার এই পরিবর্তনটি বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



















