ওমান, ১২ এপ্রিল ২০২৫ — ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বাস্তব ও ন্যায্য’ চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি এক্সে পোস্ট দিয়ে এ আহ্বান জানান। আজ শনিবার ওমানে শুরু হচ্ছে আলোচিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা, যেটিকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শামখানি বলেন, “ক্যামেরার সামনে শুধু দেখানোর মতো কথাবার্তার বদলে তেহরান একটি বাস্তব ও ন্যায্য চুক্তি চায়। গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব প্রস্তুত রয়েছে।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনায় অংশ নিতে ওমানে যাচ্ছেন ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার জন্য পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে’। শামখানি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র সদিচ্ছা দেখালে আলোচনার পথ সহজ হবে।
এদিকে আলোচনার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আলোচনায় ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ ‘অবশ্যই’ একটি বিকল্প হতে পারে। এর পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের বহিষ্কারের কথা ভাবছে, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্র ‘উস্কানিমূলক’ পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, “ইরান সততা ও সম্পূর্ণ সতর্কতার সঙ্গে কূটনীতিকে একটি বাস্তব সুযোগ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো।”
আলোচনার ধরন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ভিন্ন মত দেখা দিয়েছে। ইরান বলছে এটি পরোক্ষ আলোচনা হবে, যেখানে বার্তা ও চুক্তির খসড়া টেক্সটের মাধ্যমে আদান-প্রদান হবে। তবে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট সরাসরি আলোচনায় বিশ্বাস করেন।”
ওমানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ওমান অতীতেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করেছে।
আলোচনার ঠিক আগেই উইটকফ রাশিয়া সফর করেছেন, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি, মস্কোতে রাশিয়া, চীন ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
এই আলোচনার দিকে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর, যেখানে একটি নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি নতুন উত্তেজনার ঝুঁকিও বিদ্যমান।



















