ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিরসনে যৌথভাবে পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে চীন ও পাকিস্তান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ, ২০২৬) বেইজিংয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে প্রস্তাবিত ৫টি দফা নিচে তুলে ধরা হলো:
- ১. অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা: যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করে সব পক্ষকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক মানুষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- ২. সংলাপ ও কূটনীতি: বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র পথ হিসেবে দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন ও পাকিস্তান সব ধরনের কূটনৈতিক সমর্থন দেবে বলে জানানো হয়েছে।
- ৩. বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা: আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলে বেসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক লক্ষ্যবস্তু যেমন—জ্বালানি কেন্দ্র, বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- ৪. নৌ-নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই জলপথকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ৫. দীর্ঘমেয়াদী শান্তি কাঠামো: জাতিসংঘ সনদের আলোকে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে চীন ও পাকিস্তান উভয় দেশই সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয়কর হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই ৫ দফা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: দ্য ডন, সিনহুয়া



















