যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী অভিযানের জেরে লেবাননে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। লেবাননের সমাজকল্যাণমন্ত্রী হানিন সায়েদ রোববার (৮ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এদের মধ্যে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলেও এখন নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে ৮৩ জন শিশু এবং ৪২ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়াও দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ৯ জন উদ্ধারকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরাইলি ড্রোনগুলো এখন পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত বৈরুতের রাউশে এলাকার হোটেলগুলোতেও আঘাত হানছে, যেখানে সংঘাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। রোববার ভোরে রাউশের একটি হোটেলে হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও ইসরাইলি দাবি:
- কুদস ফোর্স কমান্ডারদের মৃত্যু: ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বৈরুতের হামলায় ইরানের এলিট বাহিনী ‘কুদস ফোর্সের’ লেবানন কর্পসের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের মতে, তারা বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল।
- আগ্রাসনের বিস্তৃতি: প্রথমবারের মতো বৈরুতের প্রাণকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইসরাইল এই সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে, যা সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
- মানবিক বিপর্যয়: হু হু করে বাড়তে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা লেবাননের অর্থনীতি ও সমাজকাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে, যা সামাল দেওয়া দেশটির সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কেবল লেবানন নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বৈরুতের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলোতে যেখানে একসময় পর্যটকদের ভিড় থাকতো, সেখানে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ আর আর্তনাদ। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা



















