সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে রংপুরে তেল নিতে গিয়ে এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলে রংপুর নগরীর টার্মিনাল এলাকার সুরমা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মেহেদী হাসান (৩২) নামের এক তরুণ শিক্ষক।
ঘটনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ঘটনার বিবরণ
নিহত মেহেদী হাসান তাঁর মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে সুরমা ফিলিং স্টেশনে গিয়েছিলেন।
- মৃত্যুর কারণ: তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লাইনেই তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়।
- হাসপাতালে স্থানান্তর: তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
২. মরহুমের পরিচয়
মেহেদী হাসান একজন মেধাবী শিক্ষক ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন:
- পেশা: তিনি রংপুরের লাহিড়ীর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- শিক্ষা: তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন।
- পরিবার: তিনি রংপুর নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়ার বাসিন্দা মতিউর রহমানের ছেলে।
৩. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও পুলিশের বক্তব্য
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজনের মৃত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
৪. জ্বালানি সংকটের করুণ চিত্র
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আজ সকালেই পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ার যে সংকটের কথা বলেছিলেন, রংপুরের এই ঘটনা তারই এক করুণ বাস্তব প্রতিফলন। দেশজুড়ে তীব্র গরম এবং দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার মানসিক ও শারীরিক চাপ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।
মেহেদী হাসানের এই অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



















