জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ঘোষিত এই রায়ে অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী স্বাক্ষর করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রায় ঘোষণার দিনটি ছিল শেখ হাসিনার ৫৮তম বিবাহবার্ষিকী। ১৯৬৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের কারাবন্দি অবস্থায় ফজিলাতুন নেছা মুজিবের তত্ত্বাবধানে শেখ হাসিনার বিয়ে হয় পরমাণুবিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান—সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা পাঁচবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হন—১৯৯৬–২০০১, ২০০৯–২০১৪, ২০১৪–২০১৯, ২০১৯–২০২৪ এবং ২০২৪ সালে। তবে ছাত্র–জনতার উত্তাল আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দমন–পীড়ন, সহিংসতা ও নিখোঁজ–খুনের অভিযোগ থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিস্ফোরণ ঘটে।
সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয় এবং গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলাটি দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পরে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আসামি করা হয়।
মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়:
১. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান
২. ছাত্র–জনতাকে নির্মূলের নির্দেশ
৩. রংপুরে আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড
৪. ঢাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা
ট্রাইব্যুনাল দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রাজসাক্ষ্য দেওয়ায় সাবেক আইজিপি মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় পাঠ শুরু হয় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এবং শেষ হয় ২টা ৫০ মিনিটে। অভিযোগ গঠন, তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্কের সব পর্যায় শেষে রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল। তবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের খালাস চেয়েছিলেন।
প্রতীক্ষিত এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।


















