ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দিনে কুয়েতের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখন এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
হামলার বিস্তারিত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, ড্রোনগুলো দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
- মূল লক্ষ্যবস্তু: ন্যাশনাল গার্ডের একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
- ক্ষয়ক্ষতি: হামলায় স্থাপনাটির ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
- হতাহতঃ সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
২. কুয়েতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
কুয়েতি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং বেশ কিছু ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিছু ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়। কুয়েত সরকার এই ঘটনাকে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
৩. ইরানের অস্বীকার
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
- বিবৃতি: তারা জানিয়েছে, ইরান যদি কোনো হামলা চালায় তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
- রহস্য: ইরানের অস্বীকারের ফলে এই হামলাটি হিজবুল্লাহ, হুতি বিদ্রোহী নাকি অন্য কোনো গোষ্ঠী চালিয়েছে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
৪. যুদ্ধবিরতির ওপর প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজকের এই হামলাটি এমন এক সময়ে হলো যখন:
- ইসলামাবাদ বৈঠক: আগামীকাল শনিবার পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।
- লেবানন ইস্যু: গতকালই ইরান লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের শর্ত দিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের এই হামলাটি আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
কুয়েতে এই হামলার পর পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আবারও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোও নতুন করে হামলার ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে। আজকের এই অস্থিতিশীল পরিবেশ আগামীকালকের শান্তি আলোচনার ওপর কালো ছায়া ফেলছে।



















