মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমানের দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণাটি দালিলিকভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, যা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্বীকার করে আসছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- দালিলিক প্রমাণ: সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার মুখে চট্টগ্রাম থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ ও স্বাধীনতার ঘোষণা থেকেই মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এটি কোনো রাজনৈতিক বয়ান নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক সত্য।
- ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ: তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, বিগত সরকার দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার ‘মিথ্যা দলিল’ তৈরি করে প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করার চেষ্টা করেছে। তারা কেবল একজনের কৃতিত্বকে বড় করে দেখাতে গিয়ে অন্য সবার অবদানকে অস্বীকার করেছে।
- দলের অবস্থান: মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি সবার অবদানের স্বীকৃতি দিতে চায় এবং কারো সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে রাজি নয়। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- গণতন্ত্রের যাত্রা: বক্তব্যে ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যাত্রাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
এই আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।



















