রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে ও মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় আজ রবিবার (২৪ মে) এক যুগান্তকারী আইনি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দুপুরের দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে নিখুঁত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন, যা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য দ্রুত বদলির আদেশ দেন। পরবর্তীতে, বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত এই গুরুতর অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে আগামী ১ জুন (সোমবার) আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জশিট গঠন বা অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ থেকে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকালে তাদের প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর স্বপ্নার স্বামী ও মূল ঘাতক সোহেল রানা তীব্র মাত্রার ইয়াবা সেবন করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে, যার ফলে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই মুহূর্তে রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে ধরা পড়ার ভয়ে সোহেল রানা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথাটি কেটে সম্পূর্ণ আলাদা করে বাথরুমের একটি বালতিতে লুকিয়ে রাখে। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খণ্ডিত দেহটি এনে শয়নকক্ষের খাটের নিচে ঢুকিয়ে রাখা হয়, যার পুরো প্রক্রিয়ায় স্ত্রী স্বপ্না একই ঘরে থেকে তাকে সরাসরি সহায়তা করে। পরবর্তীতে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে এই বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় ২০ মে আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে সোহেল রানা নিজের অপরাধের সমস্ত বিবরণ প্রকাশ করে দোষ স্বীকার করে, যার ওপর ভিত্তি করে মাত্র ৫ দিনের মাথায় ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।



















