ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের ‘জোরালো আলোচনা’ হয়েছে এবং তারা প্রায় সব প্রধান বিষয়ে একমত হতে পেরেছেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানই নিজে থেকে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে এবং আজ ফোনে আরও কথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনায় ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইরান এই আলোচনার দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও ‘মিথ্যা খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাঁর মতে, আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইরান এখনো ‘আগ্রাসনকারীদের কঠোর শাস্তি’ দেওয়ার অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশেই দেশটির কর্মকর্তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।
এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- ট্রাম্পের দাবি: প্রধান বিষয়গুলোতে ঐকমত্য হয়েছে এবং আলোচনার জন্য ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ যুক্ত ছিলেন। তবে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি বার্তা পাননি বলে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন।
- ইরানের অবস্থান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। যুক্তরাষ্ট্র কিছু বন্ধু দেশের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব পাঠালেও ইরান পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে।
- হুমকি: ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয় তবে দেশটিতে বিমান হামলা ও বোমা বর্ষণ অব্যাহত রাখা হবে।
- বাজারের কৌশল: স্পিকার গালিবাফের দাবি, তেলের বাজারে দরপতন ঘটাতেই ট্রাম্প এই আলোচনার নাটক সাজিয়েছেন।

















