ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় ব্রিটেনের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) এক বিশেষ বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, যদিও মার্কিন বাহিনী নির্দিষ্ট কিছু ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করছে, তবে তা কেবল ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং সীমিত পরিসরে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে স্টারমার জোর দিয়ে বলেন যে, ব্রিটেন অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং তারা কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে অংশ নেবে না।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমায় ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকলেও সেগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা এবং আত্মরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গত কয়েক দিনে ইরান এমন কিছু দেশেও হামলা চালিয়েছে যারা এই যুদ্ধের সাথে সরাসরি যুক্ত নয়। বিশেষ করে বাহরিনে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের অবস্থান রয়েছে এমন হোটেল ও বিমানবন্দরে ইরানের আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় দুই লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির সামরিক তৎপরতা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন স্টারমার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, যুদ্ধের বিস্তার না ঘটিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান করা বিশ্ব শান্তির জন্য মঙ্গলজনক। তিনি আরও জানান, ব্রিটিশ বাহিনী অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বেঁচে গেলেও বর্তমান উত্তেজনায় তারা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।


















