ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার তিলকপুর সংলগ্ন ছাতিয়ান গ্রামে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে ট্রেনটির নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনার পর থেকে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনের ছাদে থাকা অতিরিক্ত যাত্রী ছিটকে পড়ায় প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার তৎপরতা:
- দুর্ঘটনার সূত্রপাত: নীলসাগর এক্সপ্রেসটি বেলা ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি দিয়ে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিলকপুরের ছাতিয়ান গ্রামে পৌঁছালে নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
- আহত ও ক্ষয়ক্ষতি: ঈদযাত্রার বাড়তি চাপের কারণে ট্রেনের ছাদে অসংখ্য যাত্রী ছিলেন। বগিগুলো লাইনচ্যুত হওয়ার সময় ছাদ থেকে পড়ে এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা মিলে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
- উদ্ধার অভিযান: লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারের জন্য পাবনার ঈশ্বরদী এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান জানান, বগিগুলো সরানোর কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানিয়েছেন, লাইন মেরামত ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এর ফলে উত্তরবঙ্গগামী ও ঢাকাগামী বিভিন্ন ট্রেন মাঝপথের স্টেশনগুলোতে আটকা পড়েছে, যা ঘরমুখী হাজার হাজার যাত্রীর ভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ধৈর্য ধরার এবং সম্ভব হলে বিকল্প পথে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছে।



















