জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউটিউব, ফেসবুক ও অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার এবং আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-এর অপপ্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। নেত্রকোনার ডিসি তাঁর প্রস্তাবে উল্লেখ করেছেন যে, সঠিক নীতিমালা না থাকায় অপসাংবাদিকতা বাড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করছে। পেশাদার সাংবাদিকতা উৎসাহিত করতে এবং গণমাধ্যমের মান উন্নয়নে কঠোর নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করা হয়েছে।
তথ্য অবকাঠামো ও প্রচার কার্যক্রমে আধুনিকায়ন সম্মেলনে তথ্য প্রচারের গতিশীলতা বাড়াতে জেলা পর্যায়ে ‘আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স’ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে স্বতন্ত্র তথ্য অফিস স্থাপনের প্রস্তাব এসেছে। রাজশাহীর ডিসি বাংলাদেশ বেতারের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার ও বহুতল সম্প্রচার ভবন নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারি বার্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি বিষয়ক সচেতনতা পৌঁছে দিতে সিনেমা ভ্যান এবং আধুনিক প্রচার গাড়ি সংযোজনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁও বেতার কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
প্রযুক্তি ও নৈতিকতার চ্যালেঞ্জ বর্তমানে যখন সরকার ৫ বছরের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে এবং উত্তরবঙ্গের কৃষির উন্নয়নে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে কাজ করছে, তখন ভুল তথ্য বা এআই-এর মাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার সরকারের এসব বৃহৎ অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানে একটি ‘আধুনিক ও মানবিক’ রাষ্ট্র গড়ার ডাক দিয়েছেন, সেখানে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



















