আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামার সাথে সাথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। মহাসড়কে ডাকাতি, শহরে ছিনতাই, বাসাবাড়িতে চুরি এবং যানবাহনে অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করাই এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে মানুষের যাতায়াত এবং রাজধানী ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে এসব চক্র। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক ও পুলিশ সদস্যও রাজধানীতে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র ও ঝুঁকি:
- মহাসড়কে ডাকাত আতঙ্ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, দাউদকান্দি ও ফেনী অংশকে ‘ডেঞ্জার স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরাধীরা রাতে রাস্তা অবরোধ করে বাস, ট্রাক ও প্রাইভেট কারে ডাকাতি করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ টহল বৃদ্ধি করেছে।
- রাজধানীর ছিনতাইপ্রবণ এলাকা: গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ঢাকার আটটি জোনে ৪৩২টি ছিনতাইপ্রবণ স্থান রয়েছে, যেখানে প্রায় ৯৭৯ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়। বিশেষ করে মিরপুর, তেজগাঁও এবং মতিঝিল এলাকায় এদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি।
- অপরাধের কৌশল: পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ ছিনতাই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে করা হয়। ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংঘবদ্ধ চক্র এবং ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে পথচারীদের বিভ্রান্ত করে অপরাধীরা কাজ সারে।
- নিরাপত্তা প্রস্তুতি: পুলিশ ও র্যাব সদর দপ্তর থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। র্যাবের প্রতিটি ব্যাটালিয়নকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির জেলা পুলিশ সুপারদের মহাসড়কে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানিয়েছেন, ফাঁকা ঢাকায় টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে ও গুলশান এলাকায় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। উৎসবের এই সময়ে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও র্যাব সমন্বিতভাবে কাজ করছে।



















